শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৬

গৃহকর্মীদের সিংহভাগই কিশোর কিশোরী শিশু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ

বাংলাদেশে গৃহকর্মীদের মধ্য সিংহভাগই হচ্ছে কিশোর-কিশোরী ও শিশু। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০১০ সালের তথ্য অনুযায়ী গৃহকর্মে নিয়োজিত মোট শিশু (৫-১৭ বছর) শ্রমিক হচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার। এর মধ্যে ৮০ শতাংশই মেয়ে শিশু।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর (বিয়াম) ফাউন্ডেশনের বিয়াম মিলনায়তনে 'গৃহকর্মী শিশু সুরক্ষা এবং আমাদের করণীয়' শীর্ষক সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনে জানানো হয়, নিবন্ধন না থাকায় তাদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আইন করে যাই করেন, এসবে তেমন কোনো সমাধান আসবে না। তারা সবাই যদি একটু মায়া ও সহানুভূতি নিয়ে গৃহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ করেন, তাহলে এসব বৈষম্য থাকবে না।
প্রতিমন্ত্রী বাবা-মায়ের প্রতি সম্মান ও যত্ম করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ করার দায়িত্ব নিজ থেকেই আসা উচিত। কিন্তু তা হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে করতে হলো আইন। এ জন্য সবার মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। রাষ্ট্রই সবকিছু করবে, এটা ভেবে থাকলে চলবে না।
তিনি বলেন, গৃহকর্মীদের যদি সবাই আত্মীয় ও আপনজন ভেবে ব্যবহার করেন, তাহলে কিন্তু তারা নির্যাতনের শিকার হবে না। গৃহকর্মীদের আয় একেবারে হালাল। তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।
প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক বিভিন্ন বেসরকারি এনজিও সংগঠনের সমালোচনা করে বলেন, অনেক এনজিও ভালো ভালো কথা বলে, কিন্তু কাজ করে উল্টো। সবাই নীতিকথা বলে, কিন্তু কাজের কাজ কেউ করে না। তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাহারি আয়োজন করে থাকে, এগুলোর খরচ তারা কোথায় পায়!
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপারসন এমরানুল হক চৌধুরী বলেন, শিশু যখন গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে, তখন শিশুর অধিকারই শুধু লঙ্ঘিত হচ্ছে না, শিশুদের ওপর নির্যাতনও করা হচ্ছে। বাজেটে শিশুদের জন্য যে বরাদ্দ থাকবে, তা একেবারে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত।
নারী মৈত্রীর 'গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের উন্নয়ন সুযোগ প্রকল্প' এর আয়োজনে এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্ল্যানের ফিল্ড অপারেশন ডিরেক্টর দেবাশীষ সাহা, ঢাকা প্রোগ্রাম ইউনিটের ম্যানেজার এমএ মান্নান, প্রকল্পের শিশু নিয়োগ কর্তা সাবরিনা তানিয়া, কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ সদস্য মদিনা খানম প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি। প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মকা- উপস্থাপন করেন নারী মৈত্রীর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর লুৎফুন নাহার।
সম্মেলনে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ-২০১০ খসড়া নীতিমালা অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরা হয়। নীতিমালায় রয়েছে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োজিতদের নিবন্ধীকরণ, সঠিক মজুরি প্রদান, নিয়োগপত্র, ছুটি, কর্মঘণ্টা, শিশু গৃহকর্মী থাকলে তাদের পড়াশোনার সুযোগ করে দেয়া ইত্যাদি।
সম্মেলনটির উপস্থাপনায় ছিলেন নারী মৈত্রীর প্রজেক্ট অফিসার লায়লা আরিফা খানম ও মনিটরিং অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন অফিসার ঈশিতা বিনতে শিরিন নজরুল।
আয়োজকরা জানান, গৃহকর্মী শিশুদের শিক্ষা ও সুরক্ষা প্রসারে কাজ করে আসছে এই সংগঠন। শিশু গৃহকর্মীদের সুরক্ষা ও শিশু অধিকার নিশ্চিত বিষয়ক সচেতনতা প্রসারে সুশীল সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিশুদের জন্য উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, জন্মনিবন্ধনকরণ, গৃহকর্মী ও নিয়োগ কর্তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় থানায় নিবন্ধীকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়।

যায়যায়দিন


SHARE THIS

Author:

0 comments: