রবিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৬

ষড়ঋতুর ভিড়ে হেমন্তের আবির্ভাব

ষড়ঋতুর ভিড়ে হেমন্তের আবির্ভাব
মনিরুজ্জামান রাফি

হেমন্ত হলো ষড়ঋতুর চতুর্থ ঋতু। কার্তিক ও অগ্রহায়ণ এ দুই মাস নিয়ে হেমন্তকাল। হেমন্ত মানেই শিশিরস্নাত প্রহর। শরতের কাশফুল মাটিতে নুইয়ে পড়ার পরপরই হেমন্তের আগমন ঘটে। এরপর আসে শীত, তাই হেমন্তকে বলা হয় শীতের পূর্বাভাস। হেমন্তে সকালবেলা আবছা কুয়াশায় ঢাকা থাকে চারদিকের মাঠঘাট।
হেমন্তের সকালে ধান গাছের ডগায় যে শিশির জমে তা হেমন্তের জানান দেয়। সকালের প্রথম রোদের বর্ণচ্ছটায় গাছের পাতাগুলো খিলখিল করে হেসে ওঠে। দৃষ্টিসীমা যতদূর গিয়ে পেঁৗছে দেখা যায়, আলোকোজ্জ্বল অপূর্ব একটি সকাল তার অভাবনীয় সৌন্দর্য নিয়ে যেন অপেক্ষমাণ। গাছেদের নরম-কচি পাতাগুলোর ফাঁকে ফাঁকে মিষ্টি রোদ আর সুনীল আকাশ যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। হেমন্তের রাতে মেঘমুক্ত আকাশে জ্যোৎস্নার আলো যেন অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি ঠিকরে পড়ে।
আর এই সময়ে হালকা শীত অনুভূত হয়। ধান উৎপাদনের ঋতু হলো হেমন্ত। বর্ষার শেষ দিকে বোনা আমন ও আউশ শরতে বেড়ে ওঠে। আর হেমন্তের প্রথম মাস কার্তিকে ধান পরিপক্ব হয়ে কাটার উপযোগী হয়। হেমন্তে শুরু হয় কৃষকের ঘরে ফসল তোলার প্রস্তুতি। কাস্তে হাতে কৃষক মাঠে মাঠে আমন ধান কাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আর নতুন ফসল দেখে কৃষকের মুখে ফুটে ওঠে ফসলের হাসি।
নবান্নের উল্লেখ ছাড়া হেমন্তের কথা শেষ হয় না। আবহমান বাংলার শস্যভিত্তিক বড় মাপের একটি লোকউৎসব হলো নবান্ন।
হেমন্তের ফসল কাটাকে কেন্দ্র করেই নবান্ন উৎসবের সূচনা হয়। নবান্নের উৎসব, নবান্ন (অর্থ : নব নতুন আর অন্ন ভাত)।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফসল তোলার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন চালের ফিরনি-পায়েস অথবা ক্ষীর তৈরি করে আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের ঘরে বিতরণ করা হয়। নবান্নে মেয়েজামাইকে নিমন্ত্রণ করা হয়, মেয়েকেও বাপের বাড়ি 'নাইওর' আনা হয়। হেমন্তকে তাই উৎসবের ঋতু বললেও ভুল হবে না।
হেমন্তে বিভিন্ন ধরনের ফলের সমারোহ ঘটে। হেমন্তের দুটি বিশিষ্ট ফল হলো কামরাঙা ও চালতা।
নারকেল এ ঋতুর প্রধান ফল। সুতরাং গৃহিণীর পিঠার তালিকায় থাকে নারকেলে তৈরি রকমারি মুখরোচক খাবার। মহিলারা রাত জেগে পিঠা তৈরি করে, আর সে কষ্ট আনন্দময় হয়ে ওঠে সকালে তা পড়শিদের মাঝে বিতরণের মধ্য দিয়ে।
হেমন্তে শিউলি, কামিনী, গন্ধরাজ, মলি্লকা, দেবকাঞ্চন, হিমঝুরি, ধারমার, রাজঅশোক ইত্যাদি নানা ধরনের ফুল ফোটে। হেমন্তের সকালে শিউলির সৌরভ বাঙালির প্রাণে আনে উৎসবের মেজাজ।
বাংলার এমন প্রকৃতি দেখায় মনে পড়ে যায় একটি গান_
'এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে না কো তুমি
সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি'।
অনুভবের ঋতু হেমন্ত ম্নান, ধূসর, অস্পষ্ট। তাকে যত অনুভব করা যায় তত দেখা যায় না। শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষার মতো হেমন্ত এমন তীব্র, প্রখর, উন্মোচিত নয়; বসন্তের মতো তার বর্ণ, গন্ধ, গরিমা নেই। হেমন্ত মৌন, শীতল, অন্তর্মুখী।
হেমন্তকাল নিয়ে অনেক কবিই কবিতা রচনা করেন।
হেমন্ত ঋতু নিয়ে কবি সুফিয়া কামালের কবিতা 'হেমন্ত'।
'সবুজ পাতার খামের ভেতর
হলুদ গাঁদা চিঠি লেখে
কোন পাথারের ওপার থেকে
আনল ডেকে হেমন্তকে'।
এ ছাড়াও এ ঋতু নিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন_ 'হিমের রাতে
হিমের রাতে ওই গগনের দীপগুলিরে,
হেমন্তিকা করল গোপন অাঁচল ঘিরে।
ঘরে ঘরে ডাক পাঠালো
'দীপালিকায় জ্বালাও আলো,
জ্বালাও আলো,
আপন আলো,
সাজাও আলোয় ধরিত্রীরে।'
তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কয়েক বছরে ছয়টি ঋতুর মাঝে চারটির উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। আর বাকি দুটি ঋতু হেমন্ত ও বসন্ত প্রকৃতি থেকে প্রায় অনুভূত হয় না।
শ্রেণি : দশম, বয়স : ১৫
কেন্দুয়া, নেত্রকোনা

যায়যায়দিন
১০ নভেম্বর ২০১৫

উত্তরাধিকার ৭১
২৯ অক্টোবর ২০১৫

আমার সংবাদ
২৫ অক্টোবর ২০০১৫

পজিটিভ বিডিনিউজ
২৫ অক্টোবর ২০১৫

রুপালি আলো


SHARE THIS

Author:

0 comments: