নানাবাড়ি হতে হঠাৎ রাত প্রায় এগারোটার দিকে ফোন এলো।
আমার নানা ভীষণ অসুস্থ, আমার মা ও তখন সেখানেই ছিল
নানাকে নিয়ে আজ রাতের ভিতরে কোন হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
তাই আমাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নানা বাড়ি যেতে হবে, কিন্তু তখন প্রায় রাত ১১.১৬ বাজে, কিছু করার নেই যেতেই হবে।
তাই কোনকিছু না ভেবেই রওনা করে দিলাম । নানার বাড়ি আমাদের বাড়ি হতে ২০ কি.মি. দূরে তাই সেখানে তাড়াতাড়ি পৌছনোর জন্য সিএনজি নিলাম।
কোন কিছু চিন্তা না করেই রওনা করে দিলাম। কিন্তু অর্ধেক রাস্তায় গিয়ে দেখা দিল আরেক সমস্যা।রাস্তায় গাড়ি খারাপ হয়ে গেল।ড্রাইভার সবাইকে নেমে যেতে বললেন ,তাই সবাই সিএনজি থেকে নেমে গেলাম।
এভাবে অনেক্ষণ অপেক্ষার পর গাড়ি ঠিকঠাক হলো। আর যখন ঠিক হলো তখন প্রায় ১১.৩০ বাজে।
অবশেষে রাত প্রায় ১২ টার সময় বাড়ির কাছে বাজারে পৌছালাম,বাজার থেকে বাড়ি খুব বেশী দূরে নয়।
কিন্তু বাজার থেকে যে বাড়িতে যাব একটা রিক্সাও পেলাম না। তাই আর কি করা হেটেই রওনা দিলাম।
বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে একটি ছোট জঙ্গল পড়ে, ঐ জঙ্গল পাড়ি দেওয়ার পথে ঘটলো এক ভূতোরে কান্ড। আমি যেই জঙ্গলের ভিতরে প্রবেশ করলাম ঠিক তখনই দেখলাম দুপাশে যত বাঁশ গাছ ছিল সব মাটির সংস্পর্শে এসে গেছে,
কি যেন একটা প্রকান্ড দানবের মত কিছু একটা হাত পা ছুরছে, আমার আর বুঝতে বাকি রইলনা যে এটা একটা ভূত।
আমি ছোট বেলায় মায়ের মুখে শুনা ভূতের বর্ননা ঠিক এইরকম ই ছিল।ছোটবেলাকার মায়ের মুখে শুনা ভূতের গল্পের কথা মনে হতেই দেখি ভয়ে প্যান্ট ভিজানোর অবস্থা হল।
এমন সময় মনে হলো মামার মুখে শোনা এই জঙ্গলের ভূতুড়ে কাহিনী। এখানে নাকি মাঝে মাঝেই এইরকম ঘটনা ঘটতো,আমার মামার সাথেও এইরকম ঘটনা ঘটেছিল। কথাগুলো মনে করে শরীরটা কেমন যেন কাঁপুনি দিয়ে উঠলো।
কি করবো কিছু বুঝতে পারছিলামনা তখন নিজে নিজেই মনে সাহস যোগালাম, তখন বিশালাকার ভূতটি আমায় বলতে লাগলো হাও মাও মানুষের গন্ধ পাও তখন........... আমিও বলতে লাগলাম হাও মাও ছানা ভূতের গন্ধ পাও। ভূতটা রেগে বলতে লাগলো
:কেরে আমাকে ছানা ভূত বলল?আমার বয়স ৪০০০ বছর।
: এই শোন ছানাভূত আমার বয়স মাত্র পনের বছর।
:তোর বয়স মাত্র পনেরো তুই আমার সাথে চোখ তুলে কথা বলছিস?
:আমার বয়স কম হলেও আমার ক্ষমতা তর চেয়ে বেশী,
:কি তর ক্ষমতা বেশী? দেখাতো তবে তোর ক্ষমতা ।
এই পড়েছি এক মহা মুশকিলে এখন কি করবো কি ক্ষমতা দেখাবো তাই ভেবে পাচ্ছিনা। তাৎখনিক একটা দুষ্টু বুদ্ধি মাথায় খেলে উঠলো। আমার বড় স্কিন ওয়ালা ফোনে কয়েকটি ভয়ংকর মুভি ছিল তাই কাজে লাগালাম, আমি সাহস করে বললাম তোর মত অনেক ভয়ংকর ভূত আমি পকেটে নিয়ে বেড়াই, এই বলে আমি একটা মুভি দেখালাম ফোনে দেখানো ভয়ঙ্কর ভূতের কান্ড দেখে ছানাভূততো একদম ভয়ে শান্ত হয়ে গেল। আমি বললাম আমার সাথে লাগতে এলে ওরা তোকে ধ্বংস করে দিবে। এবার রাস্তা ছাড়। তখন সাইসাই করে বাঁশগাছগুলো আবার স্বাভাবিক হয়ে গেল।
আসার সময়ে ছানাভূতকে সাবধান করে দিয়ে এলাম আর কখনো যেন কাউকে ভয় না দেখায়।
অবশেষে আমি রাত সাড়ে বারোটার সময় নানা বাড়ি পৌছালাম।এবং নানাকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্য রওনা হলাম।
(দেশ এখন ডিজিটাল হচ্ছে, এই ডিজিটাল জগতে ভূতও আমাদের কাছে হার মানতে বাধ্য)

0 comments: