আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ১৯৫২ সালের (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৯) এই দিনে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা হরতাল ডাকে। সরকার হরতাল ঠেকাতে ২০ ফেব্রুয়ারি হতে এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে।
ঐ সময় ছাত্র জনতা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে এলে পুলিশ আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর গুলি চালায়,তাদের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ এতে বরকত, আবদুল জব্বার ,রফিক ,সালামসহ বেশ কয়েকজন ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী সহ সকল ছাত্র জনতা এসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে সমবেত হয়,এলাকাবাসী ছাত্রদের পাশাপাশি প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি রাজপথে নেমে আসে।
তারা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদদের জন্য অনুষ্ঠিত গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করে।
ভাষাশহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয় সরকার।
তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে এবং প্রতিবছর দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় সাথে পালন করে আসছে বাঙালীসহ জাতিসংঘের সদস্যদেশসমূহ দেশগুলোতে।
একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জনগণের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন।যা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে ছোট বড় সকলের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে ।
২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি
জাতিসংঘের সদস্যদেশসমূহে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।
তখন থেকে প্রতি বছর এ দিনটি জাতীয় ‘শোক দিবস’ হিসেবে উদ্যাপিত হয়ে আসছে।
২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা এক মিনিটে খালি পায়ে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে প্রধানমন্ত্রী ,মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষকবৃন্দ,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এবং সাধারন জনগণ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শুধু ঢাকাই নয় এখন গ্রামে শহরে ,প্রতিটি স্কুল কলেজে ছোট বড় শিক্ষার্থীদ ও শিশুরাও যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে দিবসটি পালন করে।
এ সময়-
"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি "
গানটি সকলের মুখে প্রতিধ্বনি হতে থাকে।
আমাদের সকলেই খেয়াল রাখতে হবে যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম দিবসটির সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায়।

0 comments: